খোরশেদ আলম : নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলা ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোন ফাইলে স্বাক্ষর করা হয় না। শুধু উপজেলা ভূমি অফিস নয়, নয়টি তহসিল অফিস ও দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তফসিল অফিসগুলোতে খাজনা রশিদে অতিরিক্ত তিন থেকে চার গুণ টাকা বেশি নেয়া হয। আর টাকাএইসব অফিসগুলোতে না দিলে খাজনা নেয়া হয় না। নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁ ইউনিয়ন কাশিপুর ভুমি অফিসের তহসিলদার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলার বারগাঁ ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মৃত তনু মিয়ার কন্যা জরিনা খাতুন সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিগত ১৫ই ফেব্রুয়ারী ভুক্তভোগী জরিনা খাতুন লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করেছেন কাশিপুর মৌজার ৬৭২ বিএস খতিয়ানে ১৯৬৯ দাগে ১আনা ২২শতক ভুমি বিজ্ঞ বেগমগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী (বন্টক) মামলা নং ৮৯/২০২১ এর বিগত ০৮/০৫/২২ ইং তারিখে রায় ডিক্রির আলোকে জরিনা খাতুন পৃথক খতিয়ান সৃজন করার লক্ষ্যে সোনাইমুড়ী সহকারী কমিশনার ভুমির কাছে আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে কাশিপুর তহসিলদার সাইফুল ইসলাম ১লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন।তার দাবী কৃত অর্থের বিপরীতে ১৫হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পরেও অদ্যবদি পৃথক খতিয়ান সৃজন করেননি।
তার ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে তহসিলদার সাইফুল ইসলাম ও ঝাড়ুদার জাফর বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেন। উপজেলার নদনা ইউনিয়ন তহসিলদার মলিন পাল এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। তাকে টাকা না দিলে কোন নথিতে সে স্বাক্ষর করেন না।
বজরা ইউনিয়ন সহকারি তহসিলদার কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ও অভিযোগ রয়েছে বজরা গ্রামের হানিফ নামে এক প্রতিবন্ধীকে তার জমি নাম জারি করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে দশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তিনিও এ নিয়ে এসি ল্যান্ড এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জরিনা খাতুন অভিযোগ দাখিল করলে ২০ ফেব্রুয়ারী স্বাক্ষরিত নোটিশ প্রদান করে এবং আগামী ১মার্চ শুনানির জন্য ধার্য করে। সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসমাইল হোসেন অভিযোগ হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে কাশিপুর তহসিলদার সাইফুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে শুনেছেন শুনানিতে যা হয় হবে।